পিরোজপুরে শতকোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতির পরিচালক উধাও
৫ দিন আগে বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
নেছারাবাদে সদস্যদের জমা দেওয়া সঞ্চয়ের প্রায় শতকোটি টাকা নিয়ে আস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ও আদমকাঠি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালকরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পেনশন ডিপোজিট স্কিম পদ্ধতিতে ৫-৬ বছরে দ্বিগুণ মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার সদস্যের কাছ থেকে সমিতিগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার গণপতিকাঠি গ্রামের বিশ্বজিত হালদার খোকনের পরিচালিত আস্থা সমবায় সমিতি ১০-১২টি শাখা অফিসের মাধ্যমে সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার সঞ্চয় সংগ্রহ করেন। একইভাবে আদমকাঠি ক্ষুদ্র সমবায় সমিতির পরিচালক নামধারী মালিক হরন্ময় মণ্ডল, সুব্রত মজুমদার, বিপুল কির্তনীয়া গং ২০-২৫ কোটি টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। পরিচালকরা পালিয়ে থাকায় সদস্যরা তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা উদ্ধার করতে পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন। সমিতির নিবন্ধন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এনজিওর স্টাইলে সুদের কারবার করা সমিতির বিষয়ে বরাবর নিরব ভূমিকায় থেকেছে নিবন্ধন সংস্থা সমবায় দপ্তর। আস্থা সমিতির ২০-৩০ জন মাঠকর্মীও সদস্যদের ভয়ে পরিবার নিয়ে লাপাত্তা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমবায় দপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে স্বরূপকাঠিত শতাধিক সমিতি প্রতিষ্ঠিত এনজিওর স্টাইলে সুদের ব্যবসার পাশাপাশি বেআইনি পেনশন ডিপোজিট স্কিম (ডিপিএস) পদ্ধতিতে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে কোটি কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। এসব সমিতি ৫-৬ বছরে দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে। সমিতির পরিচালকদের প্রধান টার্গেট থাকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী সদস্যরা।
পলাতক অবস্থায় থাকা আস্থা সমবায় সমিতির মাঠ কর্মী ভরতকাঠি গ্রামের অঞ্জু রানী ফোনে বলেন, তার এলাকার অনেক মানুষ ওই সমিতিতে টাকা জমা রেখেছেন। টাকার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হবে। তিনি শুধু ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় করতেন। অফিসে গিয়ে মালিক (পরিচালক) বিশ্বজিত এর কাছে বড় অঙ্কের সঞ্চয়ের টাকা জমা দেওয়া লোকজনও অঞ্জুকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। হয়রানির ভয়ে তিনি এলাকা থেকে দূরে পালিয়ে রয়েছে। একই কথা বলেন দৈহারী এলাকার মাঠ কর্মী মনি মণ্ডল।
একই উপজেলার শশীদ এলাকার বিনয় ভূষণ নামের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ২০ লাখ টাকা জমা রেখেছেন বলে জানান তার এক আত্মীয়। কাটা দৈহারী গ্রামের মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি আদমকাঠি সমিতিতে এক লাখ টাকা জমা রেখে ফেরত পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয় জানতে আস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক বিশ্বজিত হালদার খোকনের কাছে তার মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ফোন বন্ধ রেখেছেন আদমকাঠি ক্ষুদ্র সমবায় সমিতির পরিচালকরা।
এ বিষয় অভিযোগ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, অনেকে নালিশ নিয়ে আসছে কিন্তু সমিতির পরিচালককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সমবায় কর্মকর্তাকে সমিতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং টাকা জমা রাখা মানুষজনকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।