উত্তর কোরিয়া কি যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?

Megna Tv

১৫ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন উচ্চ-ক্ষমতার একটি রকেট ইঞ্জিনের স্থল পরীক্ষা তদারকি করেছেন বলে রোববার (২৯ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যা দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এই ধরনের ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সহায়তা করে, কারণ এতে উৎক্ষেপণের আগে খুব কম প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।
 
পিয়ংইয়ংয়ের সরকারি কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, সবশেষ পরীক্ষাটি ছিল নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার সময়কালের জাতীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। তবে পরীক্ষার তারিখ বা স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
 
গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড ফুয়েলের ইঞ্জিন পরীক্ষা। সে সময় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, একটি ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ১,৯৭১ কিলোনিউটন থ্রাস্ট উৎপন্ন করেছে।
 
কেসিএনএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ২,৫০০ কিলোনিউটন পর্যন্ত বেশি থ্রাস্ট অর্জন করা হয়েছে। 
 
 
 
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক হং মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই অগ্রগতি উত্তর কোরিয়ার ‘বিশ্বজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের দৃঢ় সংকল্পই’ প্রমাণ করে।
 
তিনি আরও বলেন, 

সর্বোচ্চ থ্রাস্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বিশ্বের যেকোনো স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন আইসিবিএম অর্জনের ইঙ্গিত দেয়, পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার ক্ষমতাও নির্দেশ করে।

 

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিম জং উন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ইঞ্জিনের অংশবিশেষ পরিদর্শন করছেন। আরেকটি ছবিতে ভূমিতে স্থাপিত একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়, যা কমলা আলোয় পুরো পরীক্ষাস্থল আলোকিত করে।
 
কৌশলগত বাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের এক নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কিম।
 

একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত আইসিবিএম?

 

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসিসের লি হো-রিউং বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে কম থ্রাস্টের ইঞ্জিন ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে।
 
তার মতে, 

এখন আর প্রশ্ন নয় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে কি না; বরং প্রশ্ন হলো এটি একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে পারবে কি না।

 

একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র একবার উৎক্ষেপণের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া পুনঃপ্রবেশযান ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে সক্ষম। 
 
 
 
লি হো-রিউং বলেন, ‘একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন বেশি হওয়ায় এর জন্য উচ্চ থ্রাস্ট শক্তির প্রয়োজন হয়। উত্তর কোরিয়া যদি প্রমাণ করতে চায় যে তারা একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত আইসিবিএম উৎক্ষেপণে সক্ষম, তাহলে এই প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রয়োজন।’
 
পিয়ংইয়ং সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একটি আইসিবিএম পরীক্ষা চালায়।
 
কেসিএনএ-এর ভিন্ন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম জং উন একটি বিশেষ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ঘাঁটিও পরিদর্শন করেছেন, যেখানে প্রকাশিত ছবিতে সৈন্যদের কুঠার ও স্লেজহ্যামারসহ বিভিন্ন অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

#

টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

#

পথ হারালে এই জাদুঘরেই খুঁজে নেব নতুন পথ: ড. ইউনূস

#

ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ইসরায়েলি আদালত

#

‘জুলাই আন্দোলন কারও একার নয়, গণতন্ত্রকামী সবার অবদান’

#

স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করল ইতালি, মেলোনি-সানচেজের মধ্যে উত্তেজনা

#

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ মোদির ভিডিও বার্তা

#

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

#

সৌদি সফর স্থগিত করলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

#

ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

Link copied