মিয়ানমারে বন্যায় হাজারো মানুষ গৃহহীন, ১৯ জনের মৃত্যু
৮ দিন আগে
শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
মিয়ানমারে বন্যায় গৃহহীন হাজারো মানুষ।
মিয়ানমারে
প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার
হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির
জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ সংস্থার মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৬০০ জন
মানুষকে নৌকার মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা
সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এশিয়ার ওপর আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুন ইয়াগির প্রভাবে মিয়ানমার ছাড়াও
ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ভিয়েতনাম ও
থাইল্যান্ডে বন্যায় ২৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং উভয় দেশেই
নদীর পানি বেড়ে নগর অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা
বিরাজ করছে। দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে
নতুন গঠিত প্রতিরোধ বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো লড়াই করছে। বন্যার
কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষত যখন দেশটি গুরুতর
অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে।
জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত মিয়ানমার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের
(এমআইএমইউ) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের
রাজধানী নেপিদোর আশপাশের প্রায় ১৬২ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে
তলিয়ে গেছে। এছাড়া মান্দালয় শহরের ৩৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
মিয়ানমারের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত
পর্যন্ত নেপিদো অঞ্চলের ৩০টি এলাকা থেকে ৩ হাজার ৬০২ জন মানুষকে উদ্ধার করা
হয়েছে এবং বন্যায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কিছু ভবন বন্যার পানিতে ডুবে
গেছে, এবং উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে ছাদে আটকে থাকা নারী ও শিশুসহ
বাসিন্দাদের উদ্ধার করেছেন।
মিয়ানমারের
৫ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানবিক সহায়তার
প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার
কারণে আন্তর্জাতিক রেডক্রসসহ অনেক ত্রাণ সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে
পারছে না।