যেভাবে দিল্লির সবচেয়ে পরিচিত বিক্ষোভস্থল হয়ে উঠল যন্তর মন্তর
১৮ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
একসময় যেখানে বিশালাকার পাথরের যন্ত্র দিয়ে
সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো, আজ সেই স্থানই ভারতের
অন্যতম পরিচিত গণবিক্ষোভ ও নাগরিক আন্দোলনের কেন্দ্র। ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং
নাগরিক জীবনের অনন্য মেলবন্ধনের নাম—দিল্লির যন্তর মন্তর।
প্রায় ৩০০ বছর আগে, ১৭২৪ সালে জয়পুরের মহারাজা সওয়াই জয় সিং (দ্বিতীয়)
দিল্লিতে যন্তর মন্তর নির্মাণ করেন। এটি ছিল উত্তর ভারতে তার প্রতিষ্ঠিত
পাঁচটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণাগারের মধ্যে প্রথম। সে সময় আধুনিক
টেলিস্কোপের পরিবর্তে বিশাল পাথরের কাঠামোর মাধ্যমে সময় নির্ধারণ,
গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয় এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
‘যন্তর মন্তর’ নামটি সংস্কৃত শব্দ ‘যন্ত্র’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘উপকরণ’।
এখানে নির্মিত প্রতিটি স্থাপনা নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল।
সূর্যের অবস্থান নির্ণয় থেকে শুরু করে মহাজাগতিক স্থানাঙ্ক পরিমাপ—সবই ছিল
এই স্থাপত্যের অংশ।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে যন্তর মন্তরের পরিচয়। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে
দিল্লির বোট ক্লাব এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ সীমিত হওয়ার পর রাজধানীর অধিকাংশ
বিক্ষোভ ও আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর। সংসদ ভবন ও
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি দ্রুত নাগরিকদের
দাবি-দাওয়া তুলে ধরার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
বর্তমানে বিজ্ঞান ও ইতিহাসের ঐতিহ্য বহন করার পাশাপাশি যন্তর মন্তর ভারতের
গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মানবাধিকার, সামাজিক দাবি এবং জনমতের প্রতীক হিসেবেও
পরিচিত। একসময় যেখানে আকাশের রহস্য অনুসন্ধান করা হতো, আজ সেখানে ভবিষ্যতের
পরিবর্তনের আশা নিয়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ।
সূত্র: বেটার ইন্ডিয়া