‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কখনোই ছাড়বে না ইরান’

Megna Tv

২৩ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
সংগৃহীত ছবি

ইরানি শীর্ষ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কখনোই ছাড়বে না। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের কর্তৃত্বে থাকবে।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সাবেক এই কমান্ডার রোববার তেহরানে বিবিসির এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। 

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন “এটি আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। ইরানই নির্ধারণ করবে কারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে।”

তিনি জানান, এই নীতিকে আইন আকারে প্রণয়ন করা হচ্ছে। “আমরা সংসদে একটি বিল আনছি, যা সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে তৈরি—এটি পরিবেশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে—এবং সশস্ত্র বাহিনী এই আইন বাস্তবায়ন করবে,” তিনি বলেন।

এই আইনপ্রণেতা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ইরানের জন্য এই প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ইরান অন্যান্য দেশ কীভাবে এই নতুন কাঠামোর সুবিধা নিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে নিয়ন্ত্রণই মূল বিষয়।”

এদিকে, এমপি আজিজি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমালোচনাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বক্তব্যকে।

ইরানের পদক্ষেপকে “শত্রুতামূলক জলদস্যুতা” বলে উল্লেখ করা ইউএই-এর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশের বক্তব্যের জবাবে আজিজি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় এই দেশগুলোই “জলদস্যু, যারা আমাদের অঞ্চলকে আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন “বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলদস্যু,” কারণ তাদের পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বহু সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার অনেকগুলোই ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

“আমরা সবসময় বলেছি, আমাদের অঞ্চলকে সুরক্ষিত করতে একসঙ্গে কাজ করা দরকার,” আজিজি জোর দিয়ে বলেন।

আজিজির এই মন্তব্য আসে সেই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে জাহাজের ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা অচল করা হয় এবং মার্কিন নৌ-সেনারা জাহাজে উঠে পড়ে।

খবরে বলা হয়, চীন থেকে ইরানের দিকে যাত্রা করা ইরানি কন্টেইনার জাহাজ “টোসকা”-তে এই হামলা চালানো হয়, যা ওমান উপসাগর দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল।

এর জবাবে ইরানি বাহিনী ড্রোন হামলার মাধ্যমে ওই এলাকায় থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে।

শুক্রবার ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এটি বন্ধ ছিল।

৭ এপ্রিল, ৪০ দিনের তীব্র যুদ্ধের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন যুদ্ধ শেষ করার উদ্দেশ্যে।

তবে তিনি একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে তার আরোপিত নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেন এবং জলপথ নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন—যা ইরানি কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

#

পথ হারালে এই জাদুঘরেই খুঁজে নেব নতুন পথ: ড. ইউনূস

#

ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ইসরায়েলি আদালত

#

‘জুলাই আন্দোলন কারও একার নয়, গণতন্ত্রকামী সবার অবদান’

#

স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করল ইতালি, মেলোনি-সানচেজের মধ্যে উত্তেজনা

#

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ মোদির ভিডিও বার্তা

#

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

#

সৌদি সফর স্থগিত করলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

#

ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

#

যেভাবে দিল্লির সবচেয়ে পরিচিত বিক্ষোভস্থল হয়ে উঠল যন্তর মন্তর

Link copied