রাত নামলেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি, জানান দিচ্ছে শীতের আগমন
২৭ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রাত নামলেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। জবুথবু গ্রাম জেগে উঠতে কিছুটা সময় নেয় ভোরে। ততক্ষণে শিশির জমে ঘাসের ডগা, নতুন কুড়ি কিংবা সবজির পাতায়। খেজুরের রস ডুবিয়ে মুড়ি কিংবা গুড়ের পিঠায় বুঁদ হয় সকালের আলো। গ্রামে-গ্রামে আগুন পোহানো, জলাশয়ে পরিযায়ী পাখির রাজ্য, ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে যাওয়া হিমেল রাতের পূর্ণিমা জানিয়ে দিচ্ছে, শীত নেমে গেছে পুরো মাত্রায়।
কুয়াশার চাদর জড়ানো প্রকৃতি আড়মোড়া ভাঙছে অলস সকালে। অনেকটা জড়তা নিয়ে চোখ মেলছে চিরায়ত গ্রাম বাংলা। ভোরের বাতাস মালুম দেয় শীতের। উত্তরের হাওয়ায় জবুথবু প্রাণ-প্রকৃতি একটু উষ্ণতার খোঁজে।
শীতের প্রধান আকর্ষণ রসের হাড়ি। খেজুরের গাছের দিকে লোভাতুর দৃষ্টি ছেলে-ছোকরাদের। পিঠা-পুলি আর খেজুরের গুড়ের বদৌলতে সকালের নাস্তাটা এই ক'দিন বেশ জমাট। শীত যেন এখানে উৎসবের আরেক নাম।
সূর্যোদয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠে ব্যস্ত কৃষক। শীতের সবজি রসনাভোজীদের পাতে তুলে দিতে পরিচর্যার কমতি নেই তার। ধান কাটা হয়ে গেলে ফাঁকা মাঠ চলে যায় দুরন্ত শৈশবের দখলে। ঘরের উঠোন থেকে দিগন্ত অবধি তাদের বিচরণ দিনভর।
ঋতু পঞ্জিকায় শীতের স্থায়িত্ব কম হলেও এর পক্ষপাত তুমুল। হয়তো সে কারণেই গ্রাম-বাংলার বৈচিত্রপূর্ণ সব ছবি ধরা দেয় শীতের ক্যানভাসে।
দিনের শেষভাগে জলাশয়ে পরিযায়ীর দল ডানা ঝাঁপটালে মরচে ধরে সূর্যের রঙে। সাঁঝের ডালি সাজিয়ে আলো বিদায়ের আয়োজন করে প্রকৃতি।
দিন ফুরিয়ে রাত নামে জীবনানন্দের কবিতার মতো। রাত যৌবনা হয় কালো ভ্রমরের রং নিয়ে। শুক্লপক্ষে তাতে বাধ সাধে এক থালা চাঁদ।
পূর্ণিমার নরম আলো জেঁকে বসেছে গ্রামে। কুয়াশায় মাখামাখি হয়ে সে এক অদ্ভুত, মোহনীয় সৌন্দর্যে ভরিয়ে তোলে চারপাশ। শীত এভাবেই জমাট বাঁধে সবুজের গন্ধ মেখে। শব্দহীন, নিশ্চুপ, হিম হিম আবেশে।