সাবেক এমপি জাহিরের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা
১ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
সাবেক এমপি জাহির
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোট ১১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মোস্তাক আহমেদ নামে এক যুবক গুলিতে নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে।
এর আগে আন্দোলন চলাকালে রিপন শীল নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হওয়ায় তার মা রুবী শীল বাদী হয়ে সাবেক এমপি আবু জাহিরসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে এসএম মামুন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন।
হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫০ জন রয়েছেন। তিনি জানান, সাবেক এমপি আবু জাহির, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের কর্মী শাহ নেওয়াজ, আবু জাহির এমপির ছেলে ইফাত জামিল, বানিয়াচঙ্গ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈন আহমদ চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে মোস্তাককে হত্যা ও ছাত্র জনতাকে আহত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় অন্যান্য আসামিরা হচ্ছেন- হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন যে, গত ২ আগষ্ট বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরীর প্ররোচনা ও উস্কানিতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ লাঠি সোটা ও অগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের গুলিতে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় হবিগঞ্জ পিডিবির অস্থায়ী লাইনম্যান ও সিলেটের টুকেরবাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে মোস্তাক আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে মোশাহিদ মিয়া, মজিদ মিয়া, সোহাগ মিয়াসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন।
#NP/MA24