জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন নীতি প্রণয়নের দাবি নাগরিক সমাজের

Megna Tv

৫ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
ইবনুল হাসান রায়হান

প্রতি বছর ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় অবিলম্বে বাস্তবভিত্তিক নতুন জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ, পরিবেশ কর্মী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর সামরিক জাদুঘরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জ্বালানি সম্মেলন ২০২৫-এর সমাপনী দিনে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একমাত্র যৌক্তিক পথ বলে মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ১৩ দফা নাগরিক ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জাসদ, বাসদ, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

নাগরিক ইশতেহারটি পাঠ করেন বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোটের (বিডব্লিউজিইডি) নির্বাহী সদস্য মনোয়ার মোস্তাফা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই দাবিগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশ ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে বিদ্যুৎ কেনার জন্য। আমরা কিভাবে এখান থেকে বের হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি, সেই প্রত্যাশা আমাদের থাকতে হবে।

বিএনপির প্রতিনিধি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ন্যায়সংগত রূপান্তরকে জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বীকৃত লুটপাট বন্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান।

সিপিবির মঞ্জুর মঈন বলেন, ‘আমদানি নির্ভরতামুক্ত শক্তি নিরাপত্তার জন্য বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন।’


গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘জ্বালানি রূপান্তরকে গণতান্ত্রিক ও বিকেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

এনসিপির সারওয়ার তুষার বলেন, ‘গত বছরের ১.৭২ লাখ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল বড় ধরনের লুণ্ঠন, যা বন্ধে গণমুখী জ্বালানি নীতি জরুরি।’

বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার সমালোচনা করে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার ওপর জোর দেন।

নাগরিক ইশতেহারের ১৩ দাবির মধ্যে রয়েছে—

নতুন জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, সব চুক্তি প্রকাশযোগ্য করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য বাধ্যতামূলক করা, নতুন জীবাশ্মভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ, নতুন এলএনজি টার্মিনাল পরিহার, ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিবহন খাতে ইভি প্রচার, স্মার্ট গ্রিড ও সূর্যবাড়ি কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ২০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সভাপতির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর জরুরি; এজন্য স্বচ্ছতা, সাশ্রয়ীতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’






ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied