চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে হতে পারে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টি

Megna Tv

১৬ দিন আগে বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬


#
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে একটি বিশাল গ্রহাণু। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা সত্যি হলে ২০৩২ সালে এর আঘাতে চাঁদ থেকে মহাকাশে ছিটকে পড়তে পারে ধ্বংসাবশেষ। আর সেই ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর আকাশে তৈরি করতে পারে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টি, যা দেখা যাবে খালি চোখেই। মূলত ওই গ্রহাণু চাঁদে আঘাত হানলে তার প্রভাব শুধু চাঁদেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিজ্ঞানীদের মতে, সেই বিস্ফোরণে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ কয়েক দিন পর পৃথিবীর আকাশে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির রূপ নিতে পারে।

২০৩২ সালের ডিসেম্বরে চাঁদে আঘাত হানতে পারে এমন একটি নতুন শনাক্ত গ্রহাণুকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। এই সংঘর্ষ হলে চাঁদ থেকে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে এবং স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে একইসঙ্গে এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের জন্য এনে দিতে পারে এক বিরল গবেষণার সুযোগ।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’ নামের এই গ্রহাণুটির প্রস্থ আনুমানিক ৬০ মিটার। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর চাঁদের সঙ্গে এর সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ। সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও, সংঘর্ষ হলে সেটি এতটাই শক্তিশালী হবে যে সেই ঘটনা সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে গবেষকদের ধারণা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে রহস্যময় ‘আগুনের গোলা’, যা জানা গেল

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ইফান হে এবং তার সহলেখকদের একটি নতুন গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই সংঘর্ষ ঘটলে বিজ্ঞানীরা চাঁদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য পেতে পারেন। আরএক্সিভে প্রিপ্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়, আঘাতের ফলে যে শক্তি ছড়িয়ে পড়বে, তা মাঝারি আকারের একটি তাপ-পরমাণু বিস্ফোরণের সমান হতে পারে। আধুনিক যুগে চাঁদে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী সংঘর্ষ হতে পারে এটি।

এছাড়া গ্রহাণুটি চাঁদে আঘাত করলে প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গর্ত তৈরি হতে পারে এবং চাঁদের ভেতরে প্রায় ৫ মাত্রার একটি বৈশ্বিক ভূকম্পন সৃষ্টি হতে পারে। এতে চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাবে, যা সরাসরি জানা এতদিন বিজ্ঞানীদের জন্য কঠিন ছিল।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের আকাশে রহস্যময় দৃশ্য, গোপনে ভয়ংকর অস্ত্র পরীক্ষার আশঙ্কা

এই বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছিটকে পড়বে। এর একটি অংশ কয়েক দিন পর পৃথিবীতে এসে পড়তে পারে, ফলে আকাশে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টি, যা খালি চোখেই দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপের কিছু অংশে এই দৃশ্য বেশি স্পষ্ট হতে পারে। গবেষণার সিমুলেশন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি ঘণ্টায় লক্ষ লক্ষ উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে।

তবে এই ঘটনা বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। পড়ন্ত এই ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সম্পদের ক্ষতি হতে পারে এবং মহাকাশ সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এর কিছু অংশ স্যাটেলাইটে আঘাত হানলে ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত এক ধরনের শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: চলতি বছর চাঁদে পা রাখবে পাকিস্তান!

এই ঝুঁকির কারণে গ্রহাণুটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য একটি মিশন পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিদ্ধান্ত নিতে হবে পৃথিবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর এক অসাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ— এই দুইয়ের ভারসাম্য বিবেচনা করে।



ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

সর্বশেষ

#

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারি অফিসে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

#

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: মাদক শুধু পরিবার নয়, গোটা সমাজকে ধ্বংস করে—গৃহায়ণ মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

#

আজ বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, অন্ধকারে ঢেকে যাবে দিনের আকাশ

#

সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

#

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

#

চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত তিন, আহত ১৮

#

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে বসছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার-সিইসি

#

বাড়িঘর পোড়ানোর নির্দেশ, শেখ হাসিনা-কাদের-হাছানের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

#

মৃত্যুর দুদিন পর এসএসসির ফল, শিহাব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫

#

কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৫.৪২, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে

Link copied