মুশফিক-মিরাজের রেকর্ড জুটিতে দ্বিতীয় সেশনও বাংলাদেশের
২৮ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
সেঞ্চুরির পর মুশফিকের উদযাপন।
স্কোর:
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১১৩ ওভারে ৪৪৮/৬ ডিক্লে. (শাহীন ২৮*, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৭১*, আগা সালমান ১৯, সৌদ শাকিল ১৪১, সাইম আইয়ুব ৫৬; শফিক ২, শান মাসুদ ৬, বাবর ০)
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৪৮ ওভারে ৪৯৫/৬; লিড ৩৪ (মুশফিক ১৭৩*; মিরাজ ৫০*, জাকির ১২, শান্ত ১৬, মুমিনুল ৫০, সাদমান ৯৩, সাকিব ১৫, লিটন ৫৬)
প্রথম সেশনে একটি উইকেটই পড়েছে বাংলাদেশের। তার পর থেকে প্রান্ত আগলে ইস্পাত কঠিন মানসিকতায় গরমের মাঝেও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন মুশফিক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মিরাজ। সেই প্রতিরোধ পাকিস্তানের বোলাররা দ্বিতীয় সেশনও ভাঙতে পারেনি। বরং স্বাগতিকদের চাপে ফেলে লিড বাড়িয়ে নিচ্ছে। প্রথম ইনিংসে গড়েছে রানের পাহাড়। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে মিরাজ-মুশফিক চায়ের বিরতিতে গেছেন।
দ্বিতীয় সেশনে ৩১ ওভারের খেলা হয়েছে। কোনও উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ১০৬ রান। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৪৯৫ রান। লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪। মুশফিক ব্যাট করছেন ১৭৩ রানে। মিরাজও ৫০ রানে অপরাজিত। দু’জনের জুটি দেড়শ ছাড়িয়েছে। যা টেস্টে সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড। আগের সেরাটি ছিল ১৪৫ রানের। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জুটিটি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।
১৫০ পার মুশফিকের, মিরাজের হাফসেঞ্চুরি
শত রানের পর দেড়শ ছাড়িয়েছে মুশফিক-মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি। এই সময় ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মিরাজ। মুশফিকও স্কোর ১৫০ ছাড়িয়েছেন। মুশফিক-মিরাজ জুটিতে দেড়শ পূরণ হয়েছে ২৭২ বলে।
মুশফিক-মিরাজের জুটিতে বাংলাদেশের লিড
প্রথম সেশন থেকেই চলছে মুশফিকুর রহিমের দাপট। লিটন দাসের বিদায়ের পর সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর একশ রান পূরণ করেছে মুশফিক-মিরাজ জুটি। এই জুটিতে ভর করে লিডও নেয় তারা।
মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম সেশন বাংলাদেশের
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের শুরুতে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুশফিক-লিটন। দুর্ভাগ্য লিটনের বিদায়ে ভাঙে ১১৪ রানের জুটি। তার পরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেননি মুশফিক। লাঞ্চ বিরতির আগে তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে তার প্রথম সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারে অবশ্য ১১তম। তবে বিদেশে বেশি সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকাতে তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে মুশফিকের এটি পঞ্চম শতক। তাতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপট অব্যাহত থাকলো। প্রথম সেশনে লিটনের উইকেট নিতে পারলেও সেই মোমেন্টাম কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। বরং সপ্তম উইকেটে ৫৭ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে সফরকারী দল। বাংলাদেশ প্রথম সেশনে ২৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে ৭৩ রান।
প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৮৯। তারা পিছিয়ে আর ৫৯ রানে। ২০০ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিক অপরাজিত ১০১ রানে। ৪৪ বল খেলা মিরাজ অপরাজিত ১৭ রানে।
লিটনের বিদায়ে ভাঙলো ১১৪ রানের জুটি
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে অনেক দূর বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে এসেছিলেন লিটন-মুশফিক। তাদের প্রতিরোধের জবাব পাকিস্তানও খুঁজে পাচ্ছিল না। গতকালকের সেই জুটি চতুর্থ দিন শুরুটা দারুণ করেছিল। কিন্তু আরও বেশি স্থায়ী হয়নি লিটনের আলগা শট খেলার কারণে। নাসিম শাহর ১০০.৫ তম ওভারে শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে যথেষ্ট বাউন্স ছিল। ছিল গতিও। সেই বলটিতে অযথা স্কয়ার ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে জমা পড়েন কিপারের গ্লাভসে। তাতে ভেঙেছে ১১৪ রানের জুটি। লিটন ৭৮ বল খেলে থেমেছেন ৫৬ রানে। তাতে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ের মার।
রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন মুশফিক
মুশফিক-লিটন জুটি ভাঙার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে পাকিস্তান। ৯৮তম ওভারে তাদের লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়াও দেন আম্পায়ার। ব্যাটার ছিলেন মুশফিক। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটার রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল লেগ স্টাম্প মিস করেছে। অথচ অনফিল্ড আম্পায়ার আঙুল তুলে দিয়েছিলেন তখন!
মুশফিক-লিটনের প্রতিরোধে শুরু চতুর্থ দিন
পাকিস্তানকে চাপে রেখে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং উইকেটে ২১৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর লিটন-মুশফিক ষষ্ঠ উইকেটে ৯৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন গতকাল। সেই জুটি আরও বড় কিছুর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক লিটন। চতুর্থ দিন ৫৮ বলে ৫২ রান নিয়ে খেলতে নেমেছেন। মুশফিকুর রহিম খেলছেন রয়েসয়ে। ১২২ বলে ৫৫ রান নিয়ে খেলতে নেমেছেন তিনি।
৫ উইকেটে ৩১৬ রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছেন তারা। বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্বাগতিক বোলাররা কোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। তাদের ৪৪৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে থাকলেও শক্ত জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
#NP/MN24