গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার ২
২৯ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
ছবি :সংগ্রহ
নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূ (১৯) ও পল্লী চিকিৎসককে (২৯) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ, পরবর্তীতে সেই ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আবদুর রহমান মিস্ত্রী বাড়ির হারুনের ছেলে আফনান হোসেন শুভ (২০) ও একই গ্রামের নোমান হুজুরের বাড়ির আহম্মদ উল্যার ছেলে রহুল আমিন (৩৫)।
পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ভুক্তভোগী চিকিৎসকে বাড়ি ফেরার পথে তার বাড়িতে ওষুধ দিয়ে যেতে বলেন। রাতে ওই চিকিৎসক ফার্মেসি বন্ধ করে যাওয়ার সময় ওই গৃহবধূর ঘরে ওষুধ দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় শুভ ও রুহলসহ কয়েকজন তার গতিরোধ করে। পরে তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর ঘরে নিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে বখাটেরা চিকিৎসক ও গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
বখাটেরা সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিভিন্ন সময় নগদ চার লাখ ১১ হাজার টাকা ও তিন আনা স্বর্ণের কানের দুল নেয় বখাটেরা। এরপর তারা আরও টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী চিকিৎসক পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দেবীপুর গ্রামের কালা মিয়া মুন্সি বাড়ির সামনে থেকে আসামি শুভ ও রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল, ১০ হাজার টাকা ও এক জোড়া স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।